মুজাফ্ফর ও তার ঘোড়া

বহুদিন আগে এক বাদশাহ ছিলেন, দীর্ঘদিন তাঁর কোন সন্তান হয় না। শেষে তাঁর স্ত্রী এক ছেলের জন্ম দিয়ে মারা যান সঙ্গে সঙ্গেই। স্ত্রীর শোকে এমন ভেঙে পড়লেন তিনি যে ছেলের মুখও দেখতে চাইলেন না সেই তার মায়ের মৃত্যুর কারণ বলে: ধাইয়ের ওপর তাকে বড় করে তোলার ভার দিয়ে কড়া আদেশ দিলেন তাকে যেন লুকিয়ে রাখা হয় লোকচক্ষুর আড়ালে, এমন কি দিনের আলোয় যেন তাকে কখনও বাইরে আনা না হয়।

ছেলেটির নাম দেওয়া হল মুজাফ্ফর। রাখা হল তাকে মাটির নীচে তৈরী এক বাড়ীতে, যেখানে দিনের আলোর প্রবেশ নিষেধ—কেবল বাড়ীর ছাদের গম্বুজটা উঠে আছে মাটির উপরে। বাড়ীর বাইরে কখনও যেতে দেওয়া হয় না তাকে, কখনও সূর্য দেখে নি সে।

পাঁচবছর বয়স থেকে তাকে লেখাপড়া শেখান আরম্ভ হল। এমন বুদ্ধিমান সে যে পনর বছর বয়সেই যে যে বিষয়ে তাকে পড়ান হত তাতে পণ্ডিত হয়ে উঠল।

শিক্ষক সবসময়েই বাদশাহকে জানাতেন ছেলেটির অপূর্ব বুদ্ধিমত্তার কথা। কিন্তু বাদশাহ কিছুতেই দেখতে চান না ছেলেকে, কেবলই বলেন তাকে আরও বিদ্বান করে তুলতে।

একদিন শিক্ষক বুঝলেন যে মুজাফ্ফরকে আর কিছু শেখাবার নেই তাঁর, তাই নিজের দায়িত্বের থেকে মুক্তি পাবার পথ খুঁজতে লাগলেন।

গ্রীষ্মকালে একদিনে তিনি মুজাফ্ফরের বাড়ীর ছাদের গম্বুজ থেকে একটা ইঁট বার করে নিলেন। আধাঅন্ধকার ঘরে এসে ঢুকল সূর্যের আলো। উজ্জ্বল আলোয় টুকরোটা দেখে অবাক হল মুজাফ্ফর, বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে সেটাকে হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু যতবারই ধরে হাতের মুঠোয় কিছুতেই ধরে রাখতে পারে না।

তখন শিক্ষক ঘরে ঢুকে বললেন, ‘আঁধার কুঠরী থেকে আলোময় জগতে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে তোমার, জন্ম থেকে সে সূর্য দেখতে দেওয়া হয় নি তোমায় এবার তা দেখার সময় এসেছে, সময় এসেছে দেখার এই জগত, লোকজন, যা কিছু জীবন্ত—আকাশের পাখী, পথের ঘোড়া আর মাঠেচরা গরুভেড়ার পাল দেখার।’

আঁধার কুঠরী থেকে বেরিয়ে এসে মুজাফ্ফর সবুজ গাছপালা, নীল আকাশ জলধারা দেখতে পেয়ে মনের দুঃখে কেঁদে ফেলল যে এত বিদ্যা শিখেও এতদিন পর্যন্ত সে এই আলোকজ্জ্বল প্রাণবন্ত জগতের কথা জানত না কিছুই। তখনই সে নিজের বাড়ী, বাবার শহর রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে চাইল যেদিকে দুচোখ যায়।

কিন্তু মুজাফ্ফরকে বুঝিয়েসুঝিয়ে শান্ত করে শিক্ষক তখনি বাদশাহর কাছে গিয়ে সব ঘটনা জানালেন, ছেলেটির বুদ্ধি-মনের হাজার প্রশংসা করতে লাগলেন।

তখন বাদশাহ গোটাশহরের লোকজনদের—সাত থেকে সত্তরবছরবয়স্ক সবাইকে—সমবেত হতে আদেশ দিলেন আর তাদের সামনে ঘোষণা করলেন যে মুজাফ্ফর পনর বছর বয়সেই সমস্ত বিদ্যা আয়ত্ত করেছে তাকে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করছেন।

বাদশাহর প্রাসাদ থেকে মুজাফ্ফরের বাড়ী পর্যন্ত গোটা রাস্তা গালিচা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল, মহা আড়ম্বরে গানবাজনাসমেত ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হল বাবার কাছে। বাদশাহ তাকে নিজের পাশে বসালেন।

মুজাফ্ফর এবার থাকতে লাগল প্রাসাদেই।

একদিন সকালে মুজাফ্ফর দেখে সব লোক যাচ্ছে একই দিকে। এ কি ব্যাপার জানার ইচ্ছা হল তার, বাবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল সেকথা।

‘আজ যে জুম্মাবার, বাছা,’ বললেন বাদশাহ, ‘যারই ঘরে কোন কিছুর অভাব হয়, সেই এইদিনে বাজারে গিয়ে তা কিনে আনে।’

মুজাফ্ফর তার বাবার অনুমতি চাইল বাজারে গিয়ে যা তার প্রয়োজন তা কিনে আনার। পকেটভর্তি করে অর্থ নিয়ে চাকরবাকর সঙ্গে নিয়ে চলল সে বাজারে।

বাজারে অনেকক্ষণ ঘোরাফেরা করেও সে কেনার মত কিছু খুঁজে পেল না, ক্লান্ত হয়ে প্রাসাদে ফেরার পথ ধরল সে।

এমন সময় হঠাৎ সে দেখতে পেল একজন লোক একটা রোগা বিশ্রীচেহারার ঘোড়ার লাগাম ধরে নিয়ে আসছে, ঘোড়াটা কেন কে জানে ভারী পছন্দ হল মুজাফ্ফরের, সঙ্গের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice